PC Fix Hub

সমস্যা ১: 

আইপিএস আছে তাও কারেন্ট চলে গেলে কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যায়, সমাধান কি?





যদি IPS (ইনভার্টার/UPS) থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ চলে গেলে কম্পিউটার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সাধারণত IPS-এর ব্যাকআপ আউটপুট বা ব্যাটারি/সুইচওভার-এ সমস্যা থাকে।


সম্ভাব্য কারণ ও সমাধান:

IPS থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটার বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণত IPS, ব্যাটারি, Backup Output অথবা PC-এর PSU-এর সমস্যার কারণে এমন হতে পারে। নিচের বিষয়গুলো একে একে পরীক্ষা করুন।

১. IPS-এর ব্যাটারি দুর্বল বা নষ্ট

বিদ্যুৎ থাকলে IPS ঠিকমতো কাজ করছে, কিন্তু বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে PC বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ হলো IPS-এর ব্যাটারি দুর্বল বা নষ্ট হয়ে যাওয়া।

➡️ ব্যাটারি পরীক্ষা করুন। ব্যাটারি পুরোনো বা দুর্বল হলে নতুন ব্যাটারি লাগাতে হতে পারে।

২. IPS-এর ওপর অতিরিক্ত Load রয়েছে

কম্পিউটার, মনিটর, প্রিন্টারসহ একাধিক ডিভাইস একই সঙ্গে IPS-এ সংযুক্ত থাকলে IPS-এর ক্ষমতার চেয়ে বেশি Load হতে পারে।

➡️ পরীক্ষা করার সময় IPS-এ শুধু PC ও Monitor সংযুক্ত রাখুন। প্রিন্টার বা অন্যান্য ডিভাইস সাময়িকভাবে খুলে দিন।

৩. PC ভুল Socket-এ সংযুক্ত

অনেক IPS-এ সব Socket Backup দেয় না। কিছু Socket শুধু Line Output বা Surge Protection হিসেবে কাজ করে, আর কিছু Socket বিদ্যুৎ চলে গেলে Battery Backup দেয়।

➡️ PC-এর পাওয়ার প্লাগটি অবশ্যই Backup Output Socket-এ সংযুক্ত আছে কি না পরীক্ষা করুন।

৪. IPS-এর Changeover কাজ করছে না

বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর IPS-এর Relay বা Changeover Circuit ব্যাটারি থেকে Backup Output-এ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারলে PC সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে।

➡️ PC চালু থাকা অবস্থায় মেইন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে পরীক্ষা করুন। যদি সঙ্গে সঙ্গে PC বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে IPS-এর Changeover Circuit পরীক্ষা করতে হবে।

৫. PC-এর PSU-তে সমস্যা

কিছু দুর্বল বা নিম্নমানের PSU (Power Supply Unit) IPS-এর Output-এর সঙ্গে সঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে। বিশেষ করে IPS-এর Output Waveform-এর কারণে এমন সমস্যা হতে পারে।

➡️ সম্ভব হলে একটি ভালো মানের অন্য PSU দিয়ে PC পরীক্ষা করুন।

সহজ পরীক্ষা

কম্পিউটার চালু রাখুন এবং IPS-কে চার্জে থাকা অবস্থায় রাখুন। এরপর মেইন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেখুন কী ঘটে।

🔴 PC সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় → IPS, ব্যাটারি, Changeover বা PSU পরীক্ষা করুন।

🟡 IPS চালু থাকে কিন্তু PC বন্ধ হয়ে যায় → Backup Output, IPS-এর Waveform অথবা PSU পরীক্ষা করুন।

🟢 PC চালু থাকে → IPS স্বাভাবিকভাবে Backup দিচ্ছে; অন্য কোনো সমস্যার কারণ খুঁজতে হবে।

পরামর্শ: IPS-এর ব্যাটারি ও Changeover Circuit পরীক্ষা করার সময় প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিন।


ধন্যবাদ - ঠিকানা



সমস্যা ২: 

কম্পিউটার খুব স্লো হয়ে গেছে এবং মাঝে মাঝে হ্যাং হয়ে যায়—কী করব?



সম্ভাব্য কারণ ও সমাধান:


কম্পিউটার ধীর হয়ে যাওয়া বা মাঝে মাঝে হ্যাং হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন—RAM কম থাকা, হার্ডডিস্ক বা SSD-তে সমস্যা, Windows-এর অপ্রয়োজনীয় ফাইল জমে যাওয়া, ব্যাকগ্রাউন্ডে অতিরিক্ত প্রোগ্রাম চলা, ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার, অতিরিক্ত তাপমাত্রা কিংবা Windows-এর সিস্টেম ফাইলে সমস্যা।

প্রথমে Windows নতুন করে ইনস্টল করে দেখতে পারেন। এরপর Task Manager খুলে কোন প্রোগ্রাম বেশি CPU, Memory বা Disk ব্যবহার করছে তা পরীক্ষা করুন। অপ্রয়োজনীয় Startup Programs বন্ধ করুন এবং Temporary Files ও অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সরিয়ে ফেলুন।

এরপর হার্ডডিস্ক বা SSD-এর Health ও Temperature পরীক্ষা করুন। এ জন্য HDD Sentinel সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। এতে HDD/SSD-এর Health, Temperature এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজেই দেখা যায়।

যদি এসব করার পরও কম্পিউটার বারবার হ্যাং হয়, তাহলে RAM, SSD/HDD, Processor Temperature এবং Windows System Files ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে পুরোনো বা ত্রুটিপূর্ণ HDD/SSD হলে সেটি পরিবর্তন করলে কম্পিউটারের গতি ও কর্মক্ষমতা অনেকটাই স্বাভাবিক হতে পারে।

HDD Sentinel অ্যাপটি ফ্রি ডাউনলোড করতে নিচের লিংকে যান:

https://www.hdsentinel.com/

ধন্যবাদ - ঠিকানা

সমস্যা ৩:

নতুন করে Windows দেওয়ার পর বাংলা লেখার ফন্ট ভেঙে গেছে এবং অনেক ইংরেজি ফন্টও পাওয়া যাচ্ছে না। Word ও Illustrator-এ একই সমস্যা হচ্ছে—এর কারণ কী?


সম্ভাব্য কারণ ও সমাধান:

নতুন করে Windows ইনস্টল করার পর সাধারণত আগের ফন্টগুলো মুছে যায়। ফলে বাংলা ও ইংরেজি—দুই ধরনের লেখার ফন্টই ভেঙে যেতে পারে, ভুলভাবে দেখা যেতে পারে অথবা Word ও Illustrator-এ ফন্টের তালিকায় পাওয়া নাও যেতে পারে।

বিশেষ করে আগে ব্যবহৃত বাংলা ফন্ট যেমন SutonnyMJ, SolaimanLipi, Nikosh ইত্যাদি Windows নতুন করে ইনস্টল করার পর আবার ইনস্টল করতে হয়। একইভাবে Illustrator বা Word-এ ব্যবহৃত অন্যান্য English Font-ও পুনরায় ইনস্টল করতে হবে।

প্রয়োজনীয় বাংলা ও ইংরেজি Font সংগ্রহ করে Windows-এর Fonts ফোল্ডারে ইনস্টল করুন। এরপর Word ও Illustrator বন্ধ করে আবার চালু করুন। সাধারণত এতে সমস্যাটি সমাধান হয়ে যায়।

গুরুত্বপূর্ণ: পুরোনো ডকুমেন্ট যদি বিজয় (ANSI) ফন্টে লেখা হয়ে থাকে, তাহলে শুধু Unicode বাংলা ফন্ট ইনস্টল করলেই সবসময় ঠিক হবে না। সেই ক্ষেত্রে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট ফন্ট, যেমন SutonnyMJ, ইনস্টল করা প্রয়োজন। বিজয় সফটওয়্যার ইনস্টল করলেই বেশিরভাগ সময় লেখা ঠিক হয়ে যায়। তাই যে ভার্সন এর বিজয় আপনি ব্যবহার করেছিলেন সেটাই ইনস্টল করবেন।

ধন্যবাদ - ঠিকানা


সমস্যা ৪:

আমার কম্পিউটারে 128GB SSD-তে Windows 10 64-bit ইনস্টল করা আছে। একটি নতুন 1TB HDD সংযুক্ত করার পর ড্রাইভ দেখাচ্ছে না কেন? কীভাবে HDD-টিকে সমান তিনটি পার্টিশনে ভাগ করব?


সম্ভাব্য কারণ ও সমাধান:

নতুন হার্ড ডিস্ক ড্রাইভে সাধারণত কোনো পার্টিশন থাকে না—নিজেই তৈরি করে নিতে হয়। আপনার ক্ষেত্রে 128GB SSD-তে Windows 10 থাকবে, আর নতুন 1TB HDD-কে ৩টি সমান পার্টিশন করবেন। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

১. Disk Management খুলুন

  1. This PC-এর ওপর Right Click করুন।
  2. Manage নির্বাচন করুন।
  3. বাম পাশ থেকে Disk Management-এ ক্লিক করুন।
  4. নিচে Disk 0, Disk 1 ইত্যাদি দেখা যাবে।

২. কোনটি 1TB HDD তা নিশ্চিত করুন

এখানে খুব সতর্ক থাকবেন।

  • 128GB SSD — সাধারণত প্রায় 119GB হিসেবে দেখাবে। এতে Windows 10 আছে।
  • নতুন 1TB HDD — সাধারণত প্রায় 931GB হিসেবে দেখাবে।

👉 119GB SSD-তে কোনো Delete/Format করবেন না।
👉 প্রায় 931GB-এর নতুন HDD-টিই নির্বাচন করবেন।

৩. নতুন HDD যদি Unallocated দেখায়

যেমন:

Disk 1 — 931GB — Unallocated

তাহলে ওই কালো রঙের Unallocated অংশের ওপর Right Click → New Simple Volume দিন।

৪. প্রথম পার্টিশন তৈরি

New Simple Volume Wizard আসবে।

  • Next
  • Simple volume size in MB ঘরে লিখুন:

317000

  • Next
  • একটি Drive Letter দিন, যেমন E:
  • Next
  • NTFS নির্বাচন করুন
  • Perform a quick format টিক দিন
  • Next → Finish

এতে প্রায় 310GB-এর একটি পার্টিশন হবে।

৫. দ্বিতীয় পার্টিশন তৈরি

এখন HDD-তে যে Unallocated জায়গা থাকবে:

Right Click → New Simple Volume → Next

আবার লিখুন:

317000 MB

তারপর:

Next → Drive Letter (F:) → NTFS → Quick Format → Finish

৬. তৃতীয় পার্টিশন তৈরি

এখন আবার কিছু Unallocated জায়গা থাকবে।

ওটার ওপর:

Right Click → New Simple Volume → Next

এবার Simple volume size-এর জায়গায় যে পরিমাণ Maximum দেখাবে, সেটিই রাখুন।

অর্থাৎ এবার পুরো অবশিষ্ট জায়গা ব্যবহার করবেন।

তারপর:

Next → Drive Letter (G:) → NTFS → Quick Format → Finish

ফলাফল

আপনার 1TB HDD প্রায় এমন হবে:

Driveআনুমানিক আকার
E:310 GB
F:310 GB
G:310 GB

আর আপনার 128GB SSD আলাদা থাকবে এবং সেখানেই Windows 10 64-bit চলবে।

⚠️ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: Disk Management-এ কাজ করার সময় আগে নিশ্চিত হবেন যে আপনি প্রায় 931GB-এর HDD-তে কাজ করছেন। ভুল করে 119GB SSD-এর Volume Delete করলে Windows নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ধন্যবাদ - ঠিকানা


সমস্যা ৫:

“THIS APP HAS BEEN DISABLED” মেসেজ আসছে এবং Illustrator অ্যাপ হ্যাং হয়ে যাচ্ছে — এর কারণ কী?


সম্ভাব্য কারণ ও সমাধান:

এই মেসেজটা আসছে কারণ আপনি আনলাইসেন্সড / ক্র্যাকড অ্যাডোব সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন।

Adobe তাদের সফটওয়্যারে লাইসেন্স চেক করে। যখন তারা বুঝতে পারে যে সফটওয়্যারটা আসল নয় (পাইরেটেড), তখন এই মেসেজ দিয়ে অ্যাপটি ডিজেবল করে দেয়।

করণীয় কী?

বৈধ উপায়গুলো:

  1. আসল অ্যাডোব কিনুন
    • Adobe-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সাবস্ক্রিপশন নিন।
    • এখন প্রায়ই ডিসকাউন্ট অফার থাকে (মেসেজেই ৫৭% পর্যন্ত ছাড়ের কথা বলা হয়েছে)।
  2. বিকল্প ফ্রি সফটওয়্যার ব্যবহার করুন (যদি বাজেট না থাকে):
    • Photoshop এর বদলে → GIMP / Photopea (অনলাইন)
    • Illustrator এর বদলে → Inkscape
    • Premiere Pro এর বদলে → DaVinci Resolve (খুবই পাওয়ারফুল ও ফ্রি)
    • After Effects এর বদলে → HitFilm / Blender
  3. Student/Teacher ডিসকাউন্ট থাকলে সেটা ব্যবহার করতে পারেন (যদি যোগ্য হন)।

নোট:

ক্র্যাকড ভার্সন ব্যবহার করা অবৈধ এবং সিকিউরিটি ঝুঁকিও অনেক বেশি (ভাইরাস/ম্যালওয়্যার আসতে পারে)। তাই দীর্ঘমেয়াদে আসল বা ভালো ফ্রি অল্টারনেটিভ ব্যবহার করাই নিরাপদ।


বিকল্প পদ্ধতি:

Windows Firewall-এর মাধ্যমে Illustrator-এর Internet Access বন্ধ করুন


Windows Firewall-এর Advanced Settings ব্যবহার করে Adobe Illustrator-এর Internet Access বন্ধ করা যেতে পারে।

ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  1. প্রথমে Control Panel খুলুন।
  2. Windows Defender Firewall-এ প্রবেশ করুন।
  3. বাম পাশ থেকে Advanced settings-এ ক্লিক করুন।
  4. Inbound Rules নির্বাচন করুন।
  5. ডান পাশের Actions প্যান থেকে New Rule-এ ক্লিক করুন।
  6. Program নির্বাচন করে Next চাপুন।
  7. This program path অপশনে Illustrator যে লোকেশন থেকে চালু হচ্ছে, সেই Program Path দিন।
    উদাহরণ:
    C:\Program Files\Adobe\Adobe Illustrator 2023\Support Files\Contents\Windows
  8. Path-এর শুরু ও শেষে যদি inverted comma (") থাকে, সেগুলো মুছে দিন।
  9. Next চাপুন।
  10. Block the connection নির্বাচন করে Next চাপুন।
  11. Domain, Private এবং Public—তিনটি অপশনই টিক দেওয়া আছে কি না নিশ্চিত করে Next চাপুন।
  12. Name ঘরে যেকোনো একটি নাম দিন। যেমন: AI
  13. সবশেষে Finish-এ ক্লিক করুন।

Outbound Rules-ও একইভাবে সেট করুন

এবার Inbound Rules-এর মতো একই নিয়মে Outbound Rules-এর জন্যও নতুন একটি Rule তৈরি করুন।

অর্থাৎ:

Outbound Rules → New Rule → Program → This program path → Block the connection → Domain, Private, Public → Name → Finish

সবকিছু সম্পন্ন করার পর কম্পিউটার Restart দিন।

নোট: Illustrator-এর সঠিক Program Path আপনার ইনস্টল করা ভার্সন ও ইনস্টলেশন লোকেশন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই নিজের কম্পিউটারে Illustrator-এর আসল .exe ফাইলের লোকেশন নিশ্চিত করে Path ব্যবহার করুন।


বিকল্প পদ্ধতি:

আপনার কম্পিউটারের ইন্টারনেট সংযোগ খুলে রাখুন। 

 ধন্যবাদ - ঠিকানা



সমস্যা ৬:

প্রতিদিন কম্পিউটার চালু করলে Date & Time ভুল দেখায়





সম্ভাব্য কারণ ও সমাধান:

মাদারবোর্ডের CMOS ব্যাটারি (সাধারণত CR2032) দুর্বল হয়ে গেলে কম্পিউটার বন্ধ থাকা অবস্থায় BIOS-এর Date & Time সেটিং সংরক্ষণ করতে পারে না। ফলে প্রতিবার কম্পিউটার চালু করলে তারিখ ও সময় আবার ঠিক করতে হয়।

সমাধান:
১. কম্পিউটার বন্ধ করে পাওয়ার সংযোগ খুলে দিন।
২. মাদারবোর্ডে থাকা পুরোনো CR2032 CMOS ব্যাটারি খুলে নতুন একটি ব্যাটারি লাগান।
৩. কম্পিউটার চালু করে BIOS-এ প্রবেশ করুন।
৪. Date & Time সঠিকভাবে সেট করে Save & Exit করুন।
৫. এরপর কম্পিউটার বন্ধ করে আবার চালু করে পরীক্ষা করুন।

নোট: নতুন ব্যাটারি লাগানোর পরও যদি Date & Time বারবার ভুল হয়, তাহলে BIOS/মাদারবোর্ডের অন্য কোনো সমস্যা থাকতে পারে।

ধন্যবাদ - ঠিকানা


সমস্যা ৭:


মনিটরের স্ক্রিনে দাগ দেখা দিচ্ছে—এর কারণ কী এবং এটি কি মেরামত করা সম্ভব?


সম্ভাব্য কারণ ও সমাধান:

মনিটরের ডিসপ্লেতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। আপনার ছবিতে যেগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলোর সাধারণ কারণ ও সমাধান নিচে দিলাম:

১. রঙিন উল্লম্ব লাইন (Vertical lines)

কারণ:

  • LCD প্যানেলের ভিতরের লিকুইড ক্রিস্টাল বা ড্রাইভার সার্কিট নষ্ট
  • LVDS/eDP কেবল ঢিলে বা ক্ষতিগ্রস্ত
  • গ্রাফিক্স কার্ড/মাদারবোর্ডের সমস্যা (কম ক্ষেত্রে)

ঠিক করা সম্ভব?

  • কেবল ঢিলে থাকলে ঠিক করা যায় (সহজ)।
  • প্যানেল নষ্ট হলে সাধারণত ঠিক করা যায় না বা খরচ মনিটরের দামের কাছাকাছি হয় → নতুন মনিটর কেনাই ভালো।

২. রঙ নষ্ট / সবুজ-গোলাপি টিন্ট (Color distortion)

কারণ:

  • খারাপ HDMI/VGA/DisplayPort কেবল
  • গ্রাফিক্স ড্রাইভার সমস্যা
  • প্যানেলের কালার ফিল্টার নষ্ট

ঠিক করা সম্ভব?

  • কেবল বদলে বা ড্রাইভার আপডেট করে অনেক সময় ঠিক হয়।
  • প্যানেল নষ্ট হলে ঠিক করা কঠিন।

৩. অনুভূমিক লাইন / ব্যান্ডিং (Horizontal lines)

কারণ:

  • ব্যাকলাইট বা LED ড্রাইভার সমস্যা
  • পাওয়ার সাপ্লাই ইস্যু
  • প্যানেলের টি-কন (T-Con) বোর্ড নষ্ট

ঠিক করা সম্ভব?

  • কিছু ক্ষেত্রে টি-কন বোর্ড বদলে ঠিক হয়।
  • বেশিরভাগ সময় প্যানেল সমস্যা হলে ঠিক করা যায় না।

৪. ফাটা স্ক্রিন (Cracked screen)

কারণ:

  • শারীরিক আঘাত (চাপ, পড়ে যাওয়া, আঘাত)

ঠিক করা সম্ভব?

  • না। প্যানেল বদলাতে হয়, খরচ প্রায় নতুন মনিটরের সমান। নতুন কেনাই উত্তম।

৫. ঘন অনুভূমিক রেখা / ফ্লিকারিং

কারণ:

  • লুজ কেবল
  • রিফ্রেশ রেট সমস্যা
  • পাওয়ার বা ব্যাকলাইট ইস্যু

ঠিক করা সম্ভব?

  • কেবল চেক করে, রেজুলেশন/রিফ্রেশ রেট ঠিক করে অনেক সময় সমাধান হয়।

সাধারণভাবে কী করবেন (সহজ চেকলিস্ট):

  1. অন্য কেবল দিয়ে ট্রাই করুন (HDMI/DP/VGA)।
  2. অন্য কম্পিউটার/ল্যাপটপে মনিটর লাগিয়ে দেখুন — সমস্যা থাকলে মনিটরের দোষ।
  3. গ্রাফিক্স ড্রাইভার আপডেট/আনইনস্টল করে আবার ইনস্টল করুন।
  4. মনিটরের নিজস্ব মেনু থেকে রিসেট করুন।
  5. প্যানেল বা ইন্টারনাল কেবল সমস্যা হলে সার্ভিসিং ব্যয়বহুল — বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নতুন মনিটর কেনাই লাভজনক।

সংক্ষেপে:

  • কেবল/সফটওয়্যার সমস্যা → সহজে ঠিক হয়।
  • প্যানেল নষ্ট বা ফাটা → ঠিক করা প্রায় অসম্ভব বা অলাভজনক।
ধন্যবাদ - ঠিকানা



সমস্যা ৮:

আমার কম্পিউটারে এরকম Blue Screen of Death (BSOD) আসার কারণ কী?





সম্ভাব্য কারণ ও সমাধান:

যখন Windows-এ কোনো গুরুতর সমস্যা হয় (ড্রাইভার নষ্ট, হার্ডওয়্যার খারাপ, সিস্টেম ফাইল নষ্ট ইত্যাদি), তখন পুরো স্ক্রিন নীল হয়ে যায় এবং একটা দুঃখী মুখ (:( ) সহ এরর মেসেজ দেখায়। এটাকেই BSOD বা ব্লু স্ক্রিন অফ ডেথ বলে।

ব্লু স্ক্রিন অফ ডেথ (BSOD) সাধারণত নিচের কারণে হয়:

  • ড্রাইভার সমস্যা (সবচেয়ে সাধারণ) – বিশেষ করে গ্রাফিক্স কার্ড, নেটওয়ার্ক বা চিপসেট ড্রাইভার নষ্ট/আনকম্প্যাটিবল হলে।
  • হার্ডওয়্যার সমস্যা – RAM খারাপ, হার্ডডিস্ক/SSD এর খারাপ সেক্টর, ওভারহিটিং, পাওয়ার সাপ্লাই দুর্বল।
  • সিস্টেম ফাইল নষ্ট – Windows আপডেট ব্যর্থ হলে বা ম্যালওয়্যার আক্রমণে।
  • ওভারক্লকিং বা অতিরিক্ত গরম হওয়া।
  • নতুন হার্ডওয়্যার/সফটওয়্যার ইনস্টল করার পর কনফ্লিক্ট।
  • Windows-এর নকল License Key বা Activator ব্যবহার করে Windows Activate করলে।

আপনার ছবিতে যে Stop Code দেখা যাচ্ছে, সেটা সাধারণত ড্রাইভার বা মেমোরি সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।


ধাপে ধাপে চেষ্টা করুন (সহজ থেকে কঠিন):

  1. কম্পিউটার রিস্টার্ট দিন
    অনেক সময় একবার রিস্টার্ট দিলেই চলে যায়।
  2. সেফ মোডে বুট করুন
    • কম্পিউটার অন করে বারবার F8 বা Shift + Restart চাপুন।
    • Safe Mode-এ গিয়ে সাম্প্রতিক ইনস্টল করা সফটওয়্যার/ড্রাইভার আনইনস্টল করুন।
  3. ড্রাইভার আপডেট/রোলব্যাক করুন
    • Device Manager খুলে হলুদ চিহ্ন থাকা ডিভাইসগুলো চেক করুন।
    • বিশেষ করে Display adapter এবং Network adapter।
  4. মেমোরি (RAM) টেস্ট করুন
    • Windows Memory Diagnostic টুল চালান (Search এ লিখুন “Windows Memory Diagnostic”)।
  5. সিস্টেম ফাইল ঠিক করুন
    Command Prompt (Admin) খুলে এই কমান্ডগুলো দিন:
    text
    sfc /scannow
    DISM /Online /Cleanup-Image /RestoreHealth
  6. চেক ডিস্ক চালান
    text
    chkdsk C: /f /r
  7. Windows আপডেট চেক করুন এবং সব আপডেট ইনস্টল করুন।
  8. সিস্টেম রিস্টোর করুন (যদি আগে রিস্টোর পয়েন্ট থাকে)।
  9. উপরের কোনোটায় কাজ না হলে Windows রিসেট করুন (Keep my files অপশন দিয়ে)।


জরুরি পরামর্শ:

  • যদি বারবার BSOD আসে, তাহলে RAM বা হার্ডডিস্ক নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  • গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আগে ব্যাকআপ নিয়ে নিন।

ধন্যবাদ - ঠিকানা


সমস্যা ৯:


Epson L380 নতুন কিনে এনেছি। Power ও USB cable সংযোগ দেওয়ার পরও প্রিন্ট হচ্ছে না—এর কারণ কী এবং কীভাবে সমাধান করব?



সম্ভাব্য কারণ ও সমাধান:


ড্রাইভার ইনস্টল না করলে প্রিন্ট হবে না এটাই স্বাভাবিক। নতুন Epson L380 প্রিন্টার কম্পিউটারে ইনস্টল করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

১. প্রিন্টার প্রস্তুত করুন
প্রিন্টারটি আনবক্স করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিন। কালি ট্যাংকে নির্ধারিত রঙের কালি সঠিকভাবে আছে কি না নিশ্চিত করুন।

২. USB কেবল সংযোগ দিন
প্রিন্টার চালু করে USB কেবল দিয়ে প্রিন্টারটি কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত করুন।

৩. Driver ইনস্টল করুন
প্রিন্টারের সঙ্গে থাকা Driver CD থাকলে সেটি কম্পিউটারে প্রবেশ করান এবং Setup/Install চালু করুন। CD না থাকলে Epson-এর অফিসিয়াল সাপোর্ট সাইট থেকে Epson L380 Driver ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন।

৪. Installation সম্পন্ন করুন
Setup-এর নির্দেশনা অনুসরণ করে Install/Next চাপতে থাকুন। প্রয়োজন হলে USB কেবল সংযোগ দেওয়ার নির্দেশনা আসবে।

৫. Test Print করুন
ইনস্টল শেষ হলে Control Panel → Devices and Printers থেকে Epson L380 নির্বাচন করে Printer Properties → Print Test Page দিয়ে পরীক্ষা করুন।

সমস্যা হলে: Driver সঠিকভাবে ইনস্টল না হলে প্রিন্টার দেখা নাও যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে USB কেবল খুলে Driver পুনরায় ইনস্টল করে কম্পিউটার Restart করুন।


ধন্যবাদ - ঠিকানা



No comments:

Post a Comment